প্লাটিনাম সদস্য

জাতির সূর্য সন্তানদের হত্যার মাধ্যমে ভূমিষ্টপ্রায় একটি স্বাধীন দেশকে মেধাহীন করার সংঘবদ্ধ প্রকল্প যে ভাবে সফল – বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ড। আর আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর সেই মেধাকে ধরে রাখার এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ক্ষুদ্র প্রয়াসে – হেয়ফ ক্লাব, একটি সম্পূর্ন ব্যাতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান ।।

বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা এবং আমাদের প্লাটিনাম সদস্যঃ

বুদ্ধিজীবী অর্থ লেখক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, কন্ঠশিল্পী, সকল পর্যায়ের শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, ভাস্কর, সামরিক, আধা-সামরিক, বেসামরিক, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, চলচ্চিত্র ও নাটকের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সমাজসেবী ও সংস্কৃতিসেবী – যারাই বুদ্বিবৃত্তিক কাজে নিয়োজিত।

১৯৭১ সালের আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৪ই ডিসেম্বর এক কালোঅধ্যায়। ২৫ শে মার্চের মাঝরাত থেকেই দেশ জুড়ে হত্যা-ধর্ষণ-লুঠতরাজের পাশাপাশি বাছাই করে করে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের নিধন-পর্ব শুরু হয়। অতপর ১৪ ডিসেম্বরের বীভৎস- নারকীয়-পাশবিক হত্যাকান্ডের কোন তুলনাই হয়না। পৃথিবীতে এর আগে আর একসাথে এত বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনা কখনই ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় এ নৃশংস হত্যাকান্ডের এভাবেই ফুটে ওঠে। “আর একটু এগিয়ে যেতেই বাঁ হাতের যে মাটির ঢিপিটি ছিল তারই পাদদেশে একটি মেয়ের লাশ। মেয়েটির চোখ বাঁধা। গামছা দুটো আজও এখানে পড়ে আছে। পরনে কালো ঢাকাই শাড়ী ছিল। এক পায়ে মোজা ছিল। মুখ ও নাকের কোন আকৃতি নেই। কে যেন অস্ত্র দিয়ে তা কেটে খামচিয়ে তুলে নিয়েছে। যেন চেনা যায় না। মেয়েটি ফর্সা এবং স্বাস্থ্যবতী। স্তনের একটা অংশ কাটা। লাশটা চিৎহয়ে পড়ে আছে। বিভৎস চেহারার দৃশ্য বেশীক্ষণ দেখা যায়না। চেনার উপায় ছিল না। পরে অবশ্য সনাক্ত হয়েছে যে, মেয়েটি সেলিনা পারভীন। শিলালিপি’র এডিটর। কী দোষ করেছিলেন কবি মেহেরুন্নেসা? ঢাকার মিরপুরে, তাঁর মাথাটা কেটে তাঁরই লম্বা চুল দিয়ে ফ্যানের সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঠাকুরগাঁওয়ে বহু বুদ্ধিজীবীকে জীবন্ত অবস্থায় বাঘের খাঁচায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। যশোরের আইনজীবী মশিউর রহমানকে এতটাই অত্যাচার করা হয় যে তাঁর চেহারা বীভৎসভাবে বিকৃত হয়ে যায়, তাঁকে তাঁর অতি আপনজনই চিনতে পারেননি।

১৯৭১ ১৩টি খণ্ডে সর্বশেষ তিন শতাধিক লেখা ছাপা হলেও লেখকদের মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন ছিলেন প্রকৃত লেখক, আর অবশিষ্টগণ? তাঁদের অধিকাংশই জীবনেও একটা লাইন লেখেননি

আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে যে ধরনের কড়া সমালোচনা করেন রবার্ট ফিস্ক কিংবা বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত সরকারের সমালোচনা করেন অরুন্ধুতি রায়, তেমন কণ্ঠস্বর কেন আমরা দেখি না? অথচ একজন শওকত ওসমানকে আমরা দেখেছি আইয়ুবের শাসনামলেই তার বিরুদ্ধে ‘ক্রীতদাসের হাসি’র মতো উপন্যাস লিখতে, তাকে স্বৈরাচারী বলতে। একজন জহির রাহয়ানকে দেখেছি সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে ‘জীবন থেকে নেয়া’র মতো কালজয়ী সিনেমা বানাতে।

প্লাটিনাম সদস্যদের সুবিধাবলী:

  1. হেয়ফ ক্লাবের পক্ষ থেকে সবার জন্য একটি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ও ইমেইল একাউন্ট থাকবে।
  2. একটি প্লাটিনাম  ব্যাজ ও একটি প্লাটিনাম ইলেক্ট্রনিক আইডি কার্ড প্রদান করা
  3. অন্যান্য সুবিধাবলী পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

সম্মানিত প্লাটিনাম সদস্যদের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন।

 

 

Copyright © 2019 HEYF CLUB | Audioman by Catch Themes