ভলান্টিয়ার

তারুণ্য একটি প্রবল প্রাণশক্তি যা অফরন্ত সম্ভাবনয়া ও বর্ণালী স্বপ্ন দ্বারা উজ্জীবিত থাকে। একটি  স্ফুলিঙ্গ তারুণ্যকে  উদ্দীপ্ত শিখায় পরিণত করতে পারে, যা হয়ে ওঠতে পারে নক্ষত্রের মত সমুজ্জল। এ জন্য প্রয়োজন একটি সপ্নের – যে সপ্ন একজন তরুণ সমাজকে সফল জীবনের পথ দেখাবে – যে সপ্ন হবে উন্নত জীবন, সাফল্য ও দেশ গড়ার সপ্ন। এরাই জাতির মেরদন্ড। এ মেরুদন্ডকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার দায়িত্ব অভিভাবকদের, সমাজের, আমাদের তথা রাষ্ট্রের। সঠিক পরিচর্যা পেলে এ চারা গাছগুলিই একদিন মহিরুহ হয়ে উঠবে। অতীতের দিকে ফিরে তাকালেই দেখা যায়, দেশের প্রতিটি ক্রান্তিকালেই দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ব তরুণ ও যুব সমাজ ঐতিহাসীক ভূমিকা পালন করেছে।

বিশ্বজুড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের মধ্যে রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা, সুপ্ত সৃজণী শক্তি, সুকুমার বৃত্তিগুলি – যা জাগিয়ে তুলতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার মাধ্যমে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ভিত তৈরি করতে হবে, তেমনই নৈতিক শিক্ষা, সভ্যতা ও সুন্দর সমাজের ভিতকে শক্তিশালী করবে। বস্তুত যা প্রতিটি  তরুণকে নীতি নৈতিকতায়, দক্ষতায় ও আত্ববিশ্বাসে বলীয়ান করতঃ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মী, ব্যাবস্থাপক ও উদ্ব্যোক্তা হিসেবে ছড়িয়ে পড়তে প্রেষনা তৈরি করবে।

জ্ঞানবিত্তিক অর্থনীতির সূচকে এশিয়া  প্রশান্ত মহাসাগ্রীয় অঞ্চলের ২৮ টি দেশের মধ্যে অবস্থান ২৭ তম। যেখানে প্রকৃতিগতভাবেই আমাদের তরণেরা অপেক্ষাকৃত অনেক বেশী মেধাবী, কর্মঠ ও অভিযোজনশীল। কিন্তু তাদের সুব্যাবহার হচ্ছেনা, সুযোগের অভাবে শ্রেষ্ঠ মেধার অধিকারীরা উন্নত জীবন যাপনের সপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতে বিরাট  পশ্চাদপদতা, শ্লথ গতির ইনটারনেট, লোডশেডিং, অনিয়ন্ত্রিত যানজট, ইংরেজীতে দুর্বলতা নিয়েও কিছু তরুণ অদম্য প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় স্বদ্যোগে ৩৫ হাজার তরুণ ফ্রিলেন্সার হিসেবে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায় আইসিটি-বিপিও সেক্টরে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করে নিয়েছে। আজ বস্রশিল্পের পাশাপাশি আইসিটি-বিপিও সেক্টরেও এদেশ সাফল্যের স্বর্ন শিখরে পৌছতে পারে ।

আমাদের দেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ।গ্রামীন তরুণ সমাজকে আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে দক্ষ করে তুলতে পারলে তারা এক একজন সবুজ বিপ্লবের সৈনিক হতে পারবে।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প তরুণ উদ্ব্যোক্তাদের জন্য একটি অপরিসীম সম্ভমনাময় খাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এজন্য চাই সরকারী ও বেসরকারী ভাবে তরুণ উদ্ব্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানো।

দেশে এখন তরুণ সমাজের চরম ক্রান্তিকাল। তাদের অধিকাংশই অভাব অনটন, হতাশা থেকে তৈরি তাছাড়া সামাজিক অবক্ষয়ের কারনতো রয়েছেই। মানসম্মত শিক্ষার পশ্চাদপদতা, জ্ঞ্যান ও প্রযুক্তি শিক্ষার অভাব, শারিরীক ও মানুষিক সাস্থ্যহীনতা, চাকুরী ও আত্নকর্মসংস্থানের সুযোগের অভাব তৈরি করছে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় – কেওবা অপরাজনীতির শিকার, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে, মাদকাসক্তির ও ফেসবুকের মত মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।

বস্তুত সৎ ও সুন্দর জীবন যাপনের জন্যে এখন আমাদের প্রয়োজন পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের। প্রতি বছর ২০ লক্ষ তরুণ তরুণী চাকুরীর বাজারে প্রবেশ করছে যেখানে প্রাপ্তির সুযোগ অতি নগ্ণ্য। তাই সরকারী ও বেসরকারীভাবে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরির পাশাপাশি তাদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্ব্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই বিপুল শিক্ষিত জনসম্পদ তখন বোঝা না হয়ে এদেশের শক্তি হয়ে দাঁড়াবে। দেশের মেরুদন্ড অধিক শক্তিশালী হয়ে উঠবে, দেশ ও জাতি শান্তি, সাফল্য ও সমৃদ্ধির পথে দৌড়াবে।

হেয়ফ ক্লাব এর জন্মের মূল ভিত্তি গুলোর অন্যতম একটি কারন এই অবহেলিত তরুণ প্রজন্ম। তারা এখানে ভলান্টিয়ার হয়ে আসবে হিরো হয়ে বেরুবে। বুক ভরা শ্বাস নিয়ে উন্মুক্ত আকাশপানে চেয়ে বলবে – হে আকাশ, তুমিই আজ সিমানা,’~

ভলান্টিয়ার এর দায়িত্ব ও সুবিধাবলীঃ

  1. হেয়ফ পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষন নিয়ে নিজেকে দক্ষ ভাবে গড়ে তোলা।
  2. সংগঠনের বিভিন্ন কার্জক্রমের মাধ্যমে নিজেকে একজন আদর্শ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা।
  3. সফল, নীতিবান, আদর্শ মেম্বারদের সংস্পর্সে নিজেদেরকে উন্নত করা।
  4. হেয়ফ ক্লাবের পক্ষ থেকে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করা।
  5. কর্মক্ষমতা ও কৃতিত্বের ভিত্তিতে হায়ার মেম্বারশীপ ও ব্যাজ প্রদান।
  6. সর্বোচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ভলান্টিয়ারদের হেয়ফ এর বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানে কর্মসস্থানের সুযোগ।
  7. সুস্থ বিনোদন ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মানসিক বিকাশ সাধন।

(বিস্তারিত পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে)